Instanotes

বিতর্কঃ যুব সমাজের উন্নয়নে সমবায়ের ভূমিকা (বিপক্ষে)

উপস্থিত সম্মানীয় সভাপতি, মাননীয় বিচারকমন্ডলী, এবং আমার সহ বিতার্কিরা। আমি আজকের বিষয় “যুব সমাজের উন্নয়নে সমবায়ের ভূমিকা ” – এর বিপক্ষে বলতে চাই।

সম্মানীয় সভাপতি,সারা ভারতের সমবায় সমিতির সংখ্যা সাড়ে আট লক্ষেরও বেশি। যুব সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা অবশ্যই থাকা উচিত। কিন্তু তা নেই। আজকে আমি তথ্য, প্রমাণ ও যুক্তির মাধ্যমে জানাতে চাই যে যুব সমাজের উন্নয়নে সমবায়ের ভূমিকা পুরোপুরি ব্যর্থ। আসলে সমবায় সমিতিগুলিই ব্যর্থ। যুব সমাজের উন্নয়ন নয়, বরং সমবায় সমিতিগুলির উন্নয়ন দরকার যাতে ভবিষ্যতে যুবসমাজের জন্য জন্য কিছু করতে পারে।

পয়েন্ট ১

যুব সমাজের উন্নয়নে সবাই সমিতিগুলির ব্যর্থতার প্রধান কারণ হলো এর লিমিটেড অ্যাকসেস এবং রিচ। NSSO- এর রিপোর্ট অনুযায়ী  গ্রাম বাংলার যুব সমাজের সামান্য অংশই এই সমবায়ের সঙ্গে যুক্ত। এর ফলে সবাই সমিতি গুলি যুব সমাজের জন্য যা করতে পারতো, তা ব্যর্থ হয়েছে। এর দুটি কারণ হতে পারে – সচেতনতার অভাব এবং ভৌগোলিক কারণ। সম্মানীয় সভাপতি, একটা ব্যর্থ প্রতিষ্ঠান যুবসমাজের উন্নয়ন কীভাবে করতে পারে, এই প্রশ্নটি আমি আমার বিজ্ঞ প্রতিপক্ষদের কাছে রাখলাম।

পয়েন্ট ২

সমবায় সমিতি গুলোতে বুরোক্রাটিক অদক্ষতা এবং দুর্নীতি,  মিসম্যানেজমেন্ট এবং এমবেজেলমেন্ট (আত্মসাৎ) নতুন নয়। আজকের খবর দেখুন কিংবা দশ বছর আগের- এসবে ছেয়ে আছে। ২০১৯ সালের মহারাষ্ট্র কো-অপারেটিভ ব্যাংকের কথা বলা যায় যা সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেছে, দুর্নীতির শিকড় কত গভীর। 2023 সালের 31 শে জুলাই CNBCTV18 এর রিপোর্ট অনুযায়ী  ৪১৩৫টি ফ্রড /স্ক্যাম এর ঘটনা ঘটেছে, মোট টাকার পরিমান 10560 কোটি। ২০১৫ সালে RBI মোট ৫৪টি কোওপারেটিভ ব্যাঙ্কের লাইসেন্স বাতিল করেছে। আমরা আজ যেখানে দাঁড়িয়ে বিতর্ক করছি, সেখান থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরে, আলিপুরদুয়ারে ৫০ কোটি টাকার দূর্নীতি।  এসব দেখেশুনে কি মনে হয়? ২২ হাজার আমানতকারীর টাকা উধাও।  সমবায় সমিতি যুব সমাজের উন্নয়ন করতে পারবে?   সমবায় সমিতির নিজেদেরই উন্নয়ন ভীষণভাবে দরকার, যুব সমাজের উন্নয়ন কিভাবে হবে? 

পয়েন্ট ৩

আমাদের দেশের বেশিরভাগ সময় সমিতি গুলি অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নতির সাথে খাপ খেয়ে উঠতে পারে না। আজকের যুব সমাজ আধুনিক বিসনেস মডেল ও প্রযুক্তির সাথে যুক্ত- যা সমবায় সমিতি গুলি প্রদান করতে পারে না। পারে নি।  ২০১৯-২০ সালে অতিমারির সময়ে আমরা তা লক্ষ্য করেছি। এসব কারণেই সমবায়ের প্রতি যুব সমাজের উৎসাহ নেই। এখানে উদাহরণ হিসেবে কোওপারেটিভ সুগার ইন্ডাস্ট্রির কথা বলা যেতে পারে। কোওপারেটিভ ব্যাঙ্কের কথা বলা যেতে পারে। এরা তাদের মান্ধাতার আমলের পদ্ধতি অনুসরণ করার জন্যই আজকের দিনে বাজারে প্রতিযোগিতায় দাঁড়াতে পারে না। যুবসমাজের উন্নয়নটা কীভাবে হবে, যারা পক্ষে আছেন, তাদের কাছে প্রশ্ন থাকল?

পয়েন্ট ৪

অর্থনীতিতে কো-অপারেটিভ এর প্রভাব খুবই সীমিত। বিগত কয়েক বছরে সায়েন্স ও টেকনোলজিতে অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটেছে। উদাহরণ হিসেবে বিভিন্ন স্টার্টআপ এবং ভেঞ্চার্জ এর কথা বলা যেতে পারে যারা টেকনোলজি বেসড। এই স্টার্ট আপ গুলি যুব সমাজের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়।  তারা যেমন জনপ্রিয় হয়েছে নিজস্ব ক্ষেত্রে তেমনি অসংখ্য যুবক-যুবতীদের মধ্যে কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করেছে। কিন্তু সমবায় সমিতিগুলি তাদের নীতির কারণে যুব সমাজে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেনি। যেখানে যুব সমাজের যোগদান নেই, যুবসমাজের মধ্যে জনপ্রিয়তা নেই, সেখানে যুব সমাজের উন্নয়ন অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়েও দেখা যাবে কিনা সসন্দেহের বিষয়। আমার প্রতিপক্ষরা উত্তর দেবেন।

পয়েন্ট ৫

সমবায় সমিতিগুলি রাজনীতি থেকে মুক্ত নয়। ফলে নেপটিজমের ঘটনা ঘটে চলেছে। সমবায়ের মুনাফা যাচ্ছে গুটিকয়েক মানুষের কাছে।  এমনিতেই সমিতির লভ্যাংশ খুবই সামান্য, তার উপর – নেপোটিজম, ফেভারিটজম! Benfish এর ক্ষেত্রে কি হয়েছে? Newsclick এর রিপোর্ট অনুযায়ী যুব মৎস চাষীদের নামে লাখ লাখ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। উউন্নয়ন তো হয়ই নি, উলটে

ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে ঘাড়ে। যুব সমাজের উন্নয়ন  সোনার পাথরবাটি নয়? সমবায়সমিতিগুলি কেবলমাত্র  রাজনীতি ও দূর্নীতির হাতিয়ার হিসাবেই রয়ে গেল। যুব সমাজের উন্নয়নে কখন, কীভাবে, কোথায় কাজ করবে?  আশাকরি, আমার প্রতিপক্ষরা উত্তর দেবেন?

পয়েন্ট ৬

বেশিরভাগ সমবায় সমিতিগুলি কৃষি ও দুগ্ধ শিল্পের সাথে যুক্ত। এর বাইরে তেমন কিছু নেই। যুব সমাজের উন্নতির জন্য এমন কিছু স্কিল  তৈরি করতে পারেনি যা যুব সমাজের উন্নয়ন ঘটাতে পারে। আজকের যুব সমাজের বেশিরভাগই ডেয়ারি ফার্মিং ও কৃষিকাজে  উৎসাহী নয়। যেখানে উৎসাহ নেই, যোগদান নেই,— উন্নতি কীভাবে হবে?

পরিশেষে বলতে চাই, যুব সমাজের উন্নয়নে সমবায়ের ভূমিকা থাকা উচিত  কিন্তু সমবায় সমিতিগুলি সেই ভূমিকা পালনে প্রায় পুরোপুরিই ব্যর্থ বলা যেতে পারে। তা না হলে সাড়ে আট লক্ষে, ৮ টা সমিতির নামও নেওয়া যাচ্ছে না কেন? Amul, NAMED, IFFCO — এই সবের বাইরে আমার প্রতিপক্ষরা কোনো উদাহরণ দিতে পারে নি, পারবেও না। এরা ব্যতিক্রম।  ব্যতিক্রম কখনই উদাহরণ হিসাবে দেখানো যায় না। তবে আমি খুবই আশাবাদী। আমার বিশ্বাস, সমবায় সমিতি আগামী দিনে এমন কিছু  অবশ্যই করবে যাতে আগামী দিনে  ৮/১০ টা পয়েন্ট আমার বিপক্ষের বিতার্কিরা গলায় জোর দিয়ে বলতে পারে। ধন্যবাদ। 

পক্ষে👉Click here

Share

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *